
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসায় ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে এসে হাবিবা আক্তার নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার প্রায় ২০ দিন পার হলেও আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও সহযোগিতার বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা পাওয়া যায়নি। মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারের শেষ সম্বল একটি গৃহপালিত গরু বিক্রি করতে হয়েছে বলেও জানান তারা।
বর্তমানে হাবিবার মাথায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন এবং দ্রুত চিকিৎসা করানো জরুরি। আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদ্রাসার পাশে থাকা মসজিদের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এর আগেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। তাদের আরও অভিযোগ, এর আগেও সেখানে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
আহত শিক্ষার্থীর বাবা রেফায়েত উল্লাহ বলেন, গত ১৮ আগস্ট আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় মাদ্রাসায় পাঠাই। দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে খবর পাই, সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত মাদ্রাসায় ছুটে যাই। কয়েকজন শিক্ষকের সহযোগিতায় তাকে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা কুমিল্লা সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, এরপর থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে চিকিৎসার খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমার মেয়ে হাবিবার মাথায় দ্রুত সার্জারি করতে হবে। কিন্তু সার্জারির জন্য প্রয়োজনীয় টাকা আমার কাছে নেই। মাদ্রাসার পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত সহযোগিতার আশ্বাস পাইনি।
হাবিবার মা আকলিমা আক্তার বলেন, মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের একটি গৃহপালিত গরু ছিল, সেটিও বিক্রি করে মেয়ের চিকিৎসার খরচ চালাচ্ছি।
তবে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেরকট বাজার দারুসসুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুল গফুর। তিনি বলেন, মাদ্রাসার পক্ষ থেকে হাবিবার পরিবারকে তিন দফায় মোট ১২ হাজার টাকা সহযোগিতা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, ওই মাদ্রাসার বিষয়ে পূর্বেও অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে।
শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তারের চিকিৎসায় সহযোগিতা, দ্রুত মাথার অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা এবং মাদ্রাসার বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন