কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার উত্তর রামপুরের মিস্ত্রীপুকুর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী সদস্য তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের কুমিল্লা ব্যুরো রিপোর্টার ও কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের তথ্যপ্রযুক্তি ও আপ্যায়ন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ।
সাংবাদিক তানভীর দীপু জানান, বুধবার দুপুরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য তারা লালমাইয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। পদুয়ার বাজার মোড়ে যানজট থাকায় উত্তর রামপুর বিদ্যুৎ অফিসের সামনের সড়ক দিয়ে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে ওঠার চেষ্টা করেন তারা। এ সময় স্থানীয়ভাবে স্থাপিত লোহার ব্যারিকেডের কারণে কয়েকটি গাড়ি আটকে গেলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
তানভীর দীপুর ভাষ্য, যানজটের কারণ জানতে তিনি সামনে এগিয়ে গিয়ে লোহার ব্যারিকেডটি ওপরের দিকে ধরে একে একে গাড়িগুলো বের হয়ে যেতে সহযোগিতা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় শাওন নামে এক যুবক যানজট নিরসন ও মানুষের চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ওই যুবক তাকে ধাক্কা দেন।
পরে সহকর্মী আবদুল্লাহ আল মারুফ এগিয়ে এসে তানভীর দীপুকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। অভিযোগ, এরপর ওই যুবক রড হাতে নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসেন। স্থানীয় লোকজন তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিলেও কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে এসে আবদুল্লাহ আল মারুফের ঘাড়ে আঘাত করেন তিনি। এতে মারুফ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তানভীর দীপুর ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল মারুফ বলেন, ‘আমরা বুঝতেই পারিনি সে কেন হামলা করল। লোহার ব্যারিকেডটি সরানোর কারণে হয়তো সে আমাদের ওপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন বলেন, ‘ছেলেটা খুবই উগ্র ছিল। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর সে আরও উত্তেজিত হয়ে যায়। আমার সামনেই পেছন থেকে এসে সহকর্মীদের ওপর হামলা করে। সংবাদকর্মীদের ওপর এমন হামলা আর দেখিনি।’
এদিকে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কুমিল্লা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি বাহার রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির জীবন এক বিবৃতিতে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ বজায় রাখা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিবৃতিতে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবও। প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, ‘এই ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তারা।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল হাসান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান শুরু করেছি।’